Walking Series: Part 1: Walking Basics হাঁটার সিরিজ: পর্ব ১: হাঁটার প্রাথমিক কথা

আজকাল আমরা খুব ব্যস্ত| পড়াশুনা, চাকরি, ব্যবসা, ইত্যাদি কাজ নিয়ে এত ব্যস্ত যে আমাদের নিজেদের দিকে, বিশেষ করে নিজেদের শরীরের দিকে খেয়াল রাখার কোনো প্রয়োজন মনে করি না| আমরা কাজের শেষে বা মাঝে গোগ্রাসে মজাদার সব খাবার খেয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তুলে জীবনের আনন্দ খুজি| কিন্তু এর পরিনাম কি? হাঁ ওজন তো বাড়েই, সেই সাথে ভয়াবহ সব রোগ–ব্লাড প্রেসার, Cholesterol, ডায়বেটিস, হার্টের সমস্যা ইত্যাদিও হতে পারে| তাই কি করবেন? আমার এই ব্লগে আমি সব সময় যেটা বলি– নিয়মিত ব্যায়াম, পরিমিত আহার, ব্যালান্স ডায়েট, আর হেলদি লাইফ স্টাইল মেনে চললে কোনো অসুখই  আপনাকে কাবু করতে পারবে না|

প্রতিদিন নয় ,সপ্তাহে ৪/৫ দিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট দ্রুত হাটলেই আপনার জীবনের অনেক উন্নতি হবে| যারা ব্যায়াম করেন না, তারা কিছুদিন হাটলেই বুঝবেন এর কত উপকারিতা, শরীরটা কত ঝরঝরে মনে হচ্ছে|শরীর টাকে একটু কর্ম চঞ্চল করতে হবে, কারণ আমাদের শরীর কাজ করার জন্যে বা ব্যায়াম করার উপযোগী করে গড়ে তোলা হয়েছে| তাই ঠিক মত কর্মচঞ্চল না থাকলে বা ব্যায়াম না করলে, শরীর ফিট রাখা সম্ভব না |

তাই আপনাদের জন্য সব চেয়ে সহজ ব্যায়াম হতে পারে — হাঁটা, যা একটি low impact কার্ডিও ব্যায়াম| হাঁটা যতই সহজ হোক না কেন, এর অনেক উপকারিতা ও নিয়ম কানুন আছে | এগুলো জানা আবশ্যক| তা না হলে আপনি সঠিক ফল পাবেন না|

হাঁটার উপকারিতা:

  • ওজন কমায় ও নিয়ন্ত্রণ করে
  • ব্লাড প্রেসার, Cholesterol, Arthritis, ডায়বেটিস, হার্টের সমস্যা ইত্যাদি কমায়
  • স্ট্রোক হবার ঝুঁকি কমায়
  • হাঁড় শক্ত করে
  • রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করে
  • ফলে হার্ট ভালো থাকে, শরীরের সামগ্রিক শক্তি বা ফিটনেস বাড়ে
  • ক্যান্সার হবার সম্ভাবনা কমায়
  • মাসেলের শক্তি বাড়ায়
  • হেলদি BMI ধরে রাখে বা অর্জন করা যায়
  • হেলদি Waist-to Hip Ratio ধরে রাখে বা অর্জন করা যায়
  • Metabolism বাড়ায়
  • শরীরের সমস্ত অঙ্গ প্রত্যঙ্গ ভালো থাকে
  • তারুণ্য ধরে রাখে
  • আয়ু বাড়ায়
  • ব্রেইনের কার্যকারিতা বাড়ায়
  • ভালো ঘুম হয়
  • স্মরণ শক্তি বাড়ায়
  • মন প্রফুল্ল রাখে, মানসিক অবসাদ দূর করে ও মন ভালো করে
  • মানসিক শক্তি বৃদ্ধি করে ও আত্মবিশ্বাস বাড়ায়|

কি ভাবে হাঁটা শুরু করবেন?

  • প্রথমে জানুন কেন হাঁটবেন? আপনি কি ওজন কমাতে চান? নাকি ফিট থাকতে চান বা ফিটনেস বাড়াতে চান?
  • যদি আপনার কোনো শারীরিক সমস্যা থাকে, তবে হাঁটা শুরুর আগে একজন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ  করুন|
  • হাঁটার শুরুতে আপনার ওজন, BMI, Waist-to-hip ration দেখে রাখুন, প্রয়োজনে লিখে রাখুন|
  • আপনি কোথায় হাঁটবেন? ঠিক করুন| বাড়ির বাগানে, পার্কে নাকি ট্রেড মিলে?
  • প্রতিদিন নিয়মিত হাঁটবেন ও ভালো ফল পাবেন –এভাবে মন স্থির করুন| ফাঁকি দিলে আপনিই ভুক্তভোগী হবেন| এটা বুঝুন|
  • দরকার হলে একজন ভালো হাঁটার সঙ্গী যোগাড় করতে পারেন, যিনি আপনাকে নিয়মিত হাঁটার জন্য অনুপ্রানিত করবেন|
  • আপনার দৈনন্দিন কাজের রুটিন অনুযায়ী হাঁটার রুটিন ঠিক করুন ও সেটা মেনে চলুন| কবে, কখন, কতটা সময় হাঁটবেন আগেই রুটিন তৈরী করে নিন| সপ্তাহে ৫ দিন হলে ভালো হয়| ৬ দিন হলেও ক্ষতি নেই, তবে একদিন বিশ্রাম দিলে ভালো| ৫ দিন সম্ভব না হলে কমপক্ষে ৩ দিন হাঁটুন|
  • শুরুতে অনেক কষ্ট হবে, কিন্তু একটু ধৈর্য ধরলে, শরীরে কিছুদিন পরে সহ্য হয়ে যাবে| তাই শুরু করুন ৫-১০ মিনিট হাঁটা দিয়ে | বেশি বেশি করতে যাবেন না| শরীর কে প্রথমেই বেশি চাপ দিবেন না|
  • ১০ মিনিট কিছুদিন হেটে যদি মনে হয় আপনি ভালো বোধ করছেন, তখন হাঁটার সময় ও স্পিড আস্তে আস্তে বাড়ান| যেমন : ১০ মিনিট থেকে ১৫/২০ মিনিট বাড়ান|
  • আস্তে আস্তে বাড়িয়ে মোট হাঁটার সময় কমপক্ষে ৩০ মিনিট করুন| চাইলে এক ঘন্টাও করতে পারেন|

হাঁটার সময় লক্ষ্য রাখুন

  • হাটার সময় আপনার হার্ট রেট বা বিট খেয়াল রাখুন| হার্ট বিট  বেড়ে গেলে হাঁটার স্পিড কমিয়ে দিন|খারাপ লাগলে বা হার্ট বিট খুব বেশি বেড়ে গেলে হাঁটা বন্ধ করে দিন|
  • হাঁটার জন্য নিরিবিলি,শান্তিপূর্ণ জায়গা বেছে নিন, যাতে মনের আনন্দে হাঁটতে  পারেন|
  • ধুলো বালি, রোদ, শব্দ দূষণ, ময়লা আবর্জনা পূর্ণ পরিবেশ ইত্যাদি এড়িয়ে চলুন|
  • হাঁটার মাঝে থামিয়ে অন্য কাজ করবেন না | মনোযোগ দিয়ে হাঁটুন ও আপনি হাঁটছেন বা ব্যায়াম করছেন এটা মনে রাখুন | তা না হলে ভালো ফল পাবেন না|
  • হাঁটতে ভালো না লাগলে, আলসেমি ও মন খারাপ করে হাঁটলে কোনো লাভ নেই|
  • হাঁটার মাঝে মাঝে অল্প পরিমানে পানি খান| কি ভাবে পানি খাবেন? ক্লিক করুন|
  • হাঁটার শেষে ভালো মত গোসল করে নিন| কারণ হাঁটার ফলে যে ঘাম ও ময়লা জমে তা শরীরের জন্য খারাপ| তাই হাঁটার শেষে সাবান ও শ্যাম্পু দিয়ে ভালো মত গোসল করা উচিত

হাঁটার প্রয়োজনীয় জিনিস

হাঁটার জন্য লাগবে ভালো মানের কেডস বা জুতা, মোজা| আরামদায়ক টি শার্ট বা গেঞ্জি এবং ট্রাউসার| একটি ছোট ঘাম মুছার তোয়ালে ও পানির বোতল|

বাইরে হাঁটলে, রোদ থাকলে, সান স্ক্রিন মেখে নেয়া ভালো| প্রয়োজনে টুপি ও সান গ্লাস সাথে নিতে পারেন|
হাঁটার সময় চেষ্টা করবেন অপ্রয়োজনীয় ও ভারী জিনিস সাথে না রাখতে|
Businessweek.com এ সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে যে, আপনি যত বেশি হাঁটবেন, তত আপনার ডায়বেটিস হবার সম্ভাবনা কম হবে| সেখানে আরো প্রকাশিত হয়েছে , Australia র গবেষকদের গবেষণায় এটা প্রমানিত হয়েছে যে– যিনি সপ্তাহে ৫ দিন প্রতিদিন ১০,০০০ স্টেপ হাঁটেন, তিনি ডায়বেটিস থেকে তত দূরে থাকেন যিনি প্রতিদিন ৩,০০০ স্টেপ হাঁটেন|
তাই দেরী না করে আজই শুরু করুন নিয়মিত হাঁটা| ২৫ বছরের উপরে যারা তাদের জন্য হাঁটা অত্যাবশক|
হাঁটার সব চেয়ে বড় সুবিধা–এটির জন্যে বাড়তি কোনো যন্ত্রপাতি বা  কোনো ব্যায়ামের উপকরণ লাগে না|হাঁটা অন্যান্য ব্যায়ামের চাইতে সোজা, নিয়মিত হাঁটা একটি মজার কাজ| যাদের জিমে যাওয়া সম্ভব হয় না, তাদের জন্য হাঁটা একটি অনেক ভালো ব্যায়াম হতে পারে|
তাছাড়া সব কাজ বাদ দিয়ে মনের আনন্দে নিয়মিত হাঁটলে মনটাও সতেজ থাকে|হাঁটার মাঝে কথা না বলে নিজের জন্য ভালো কথা চিন্তা করলে এটাকে বলা  যায় এক রকম meditation|ফলে আপনার জীবনে উন্নতি তো হবেই, আপনি আরো বেশি কাজ করার জীবনী শক্তি পাবেন|
আপনার প্রতিদিনের হাঁটা আনন্দময় হোক এই কমনা করি|
আগামী প্রকাশনা: হাঁটার নিয়ম

Image By:Nick Harris1

Advertisements

2 responses to “Walking Series: Part 1: Walking Basics হাঁটার সিরিজ: পর্ব ১: হাঁটার প্রাথমিক কথা

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s