Exercise Myths ব্যায়াম সম্পর্কিত প্রচলিত কিছু ভুল ধারণা

অনেকেই ব্যায়াম করেন| কিন্তু দেখেছি অনেকেই ব্যায়েমের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে ভুল ধারণা পোষণ করেন| কারণ এই ভুল ধারণা গুলো সত্য হিসাবে প্রচলিত হবার কারণে তা ভুলই রয়ে গেছে| এর ফলে অনেকেই ব্যায়ামের সুফল পান্ না এবং ওজন ঠিক মত ওজন কমে না বা শরীরের মাসেল গুলো ঠিক মত সেপ হয় না| ফলে ফিটনেসও ঠিক মত অর্জন করা সম্ভব হয় না|
তাই আপনাদের জন্য ব্যায়াম সম্পর্কিত কিছু প্রচলিত ভুল ধারণা বা Exercise Myth দেয়া হলো:-
  • অধিক সময় ধরে ব্যায়াম করলে বেশি ক্যালরি বার্ন হবে, ফলে ওজন কমবে| সঠিক নিয়ম হলো আপনি কম সময়ে যত বেশি ক্যালরি বার্ন করার জন্য কষ্ট করবেন তত লাভ হবে, ক্যালরি বার্ন হবে তত বেশি|
  • প্রতিদিন high intensity বা অনেক কষ্টকর ব্যায়াম না করলে কোনো লাভ হবে না| সঠিক হলো: আপনি যেদিন high intensity ব্যায়াম করবেন, তারপর দিন অবশ্যই low intensity  বা কম পরিশ্রমের ব্যায়াম করবেন| অথবা শরীরকে বিশ্রাম দেবেন| তা না হলে আপনার শরীরে ব্যায়াম কাজ করবে না |
  • ব্যায়ামর আগে স্ট্রেচিং করতেই হবে| সঠিক হচ্ছে : স্ট্রেচিং করবেন দৌড়ানোর আগে এবং ওয়ার্ম আপের পরে, প্রতিটি Weight training ব্যায়ামের পরে ইত্যাদি
  • Weight Training করলে মহিলাদের মাসেল হয় | এটি একটি খুবই প্রচলিত ভুল ধারণা| মহিলাদের কখনো মাসেল হয় না| কারণ: মহিলাদের testosterone হরমন থাকে না, যা মাসেল বানাতে সাহায্য করে| তাই বেশি weight নিলেও মহিলাদের মাসেল হয় না |যদি  steroid injection নেয়া হয় তাহলে মাসেল হতে পারে|
  • High intensity ব্যায়াম করলে মহিলাদের সমস্যা হয়| সবসময় High intensity ব্যায়াম করলে সমস্যা হতে পারে, সেটা সবার জন্যই প্রযোজ্য| তাই প্রতিদিন নয়, একদিন পর পর  High intensity ব্যায়াম, যেমন: running, jogging, spinning ইত্যাদি করা যাবে, তাতে মহিলাদের কোনো সমস্যা হবে না|বরং তাতে ফিটনেস বাড়বে, ওজন তাড়াতাড়ি কমবে|
  • ব্যায়াম করলে ওজন কমে না| সঠিক হলো ব্যায়াম করলে ক্যালরি বার্ন হয়, metabolism বাড়ে ফলে ব্যায়াম ওজন কমাতে সাহায্য করে|তবে ব্যায়ামের সাথে ব্যালান্স ডায়েট করলে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যাবে|
  • কম weight নিয়ে weight lifting করলে মাসেল ভালো টোন হবে| সঠিক হচ্ছে: বেশি weight নিলে মাসেল তাড়াতাড়ি টোন হবে|
  • বেশি বেশি কার্ডিও ব্যায়াম ফ্যাট বার্ন করার জন্য দরকার| কার্ডিও ফ্যাট বার্ন করার জন্য দরকার বটে, তবে তা প্রয়োজনের অতিরিক্ত হলে, প্রয়োজনীয় মাসেল ও ফ্যাট ভাঙ্গতে শুরু করবে, ফলে হিতে বিপরীত হবে|
  • শুধু মাত্র কার্ডিও ব্যায়ামই ওজন কমাতে যথেষ্ট, weight training বা স্ট্রেচিং  ব্যায়ামের দরকার নেই| শুধু মাত্র কার্ডিও করলে কখনই আপনার ওজন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নাও আসতে পারে, আপনার মাসেল সেপ নাও হতে পারে, আপনাকে  weight training ও স্ট্রেচিং করতেই হবে|
  • ঘাম না হলে ব্যায়াম কার্যকরী হবে না| ব্যায়ামের ফলে ঘামের মাধ্যমে পানি বের হবার কারণে শরীর ঠান্ডা হতে সাহায্য করে মাত্র| ঘাম না হলেও অনেক ক্যালরি বার্ন হতে পারে|
  • বয়স্ক মানুষেরা ব্যায়াম করলে কোনো লাভ নেই| যেকোনো বয়সের মানুষ ব্যায়াম শুরু করতে পারবেন| কারণ একমাত্র ব্যায়ামই আপনাকে দেবে সুস্থ জীবনের নিশ্চয়তা|কোন ধরনের ব্যায়াম করবেন তা বয়স ও শারীরিক ফিটনেস ইত্যাদির উপর নির্ভর করে|
  • ব্যায়ামের মাঝে পানি খাবার দরকার নেই| সঠিক হলো অবশ্যই ব্যায়াম করার মাঝে, আগে ও পরে পানি খেতে হবে, না হলে শরীর dehydrated হয়ে যাবে|
  • দৌড়ালে হাটুতে সমস্যা বা অন্যান্য শারীরিক সমস্যা হয়| প্রতিদিন দৌড়ালে হাটুতে সমস্যা হতেই পারে, সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন দৌড়ালে (যদি না কোনো শারীরিক সমস্যা থাকে) তাহলে যে ফিটনেস বাড়ে, তা অবিশ্বাস্য |
  • শুধু মাত্র abdomen এর ব্যায়াম করলেই পেট বা abdomen কমবে| সঠিক হচ্ছে –কার্ডিও এবং weight training দুটিই করতে হবে পেটের ব্যায়ামের পাশাপাশি| কিভাবে মেদ ভুঁড়ি বা পেট কমাবেন ?
  • যে কেউ Yoga করতে পারে, এবং সুফল পাবে, Yogaর কোনো সমস্যা নেই|Yogaর অনেক রকম বিভাগ আছে| সবার জন্য সব রকম Yoga নয়, বয়স, ফিটনেস অনুযায়ী ,সঠিক নিয়মে, ভালো instructor এর নির্দেশনায় Yoga করতে হবে|
  • সবার জন্য সব ধরনের ব্যায়াম সমান| এক এক জনের শারীরিক অবস্থা এক এক রকম| তাই সব ব্যায়াম সবার শরীরে এক রকম কাজ নাও করতে পারে| কারো ক্ষেত্রে সময় কম বা বেশি লাগতে পারে, আবার genetic কারণে, body structure ও ডায়েট এর জন্য ও সময় এর হের ফের হতে পারে|
  • একটি perfect workout routine এই সবসময় ব্যায়াম করা দরকার| সঠিক হচ্ছে: আমাদের শরীর ৪-৬ সপ্তাহে workout routine এ অভ্যস্ত হয়ে যায়, তাই ৪ সপ্তাহ পর পর ব্যায়াম এর রুটিন বদলাতে হবে| সেটা অনেক ভাবেই হতে পারে|যেমন : নতুন ধরনের ব্যায়াম করা, ব্যায়ামের routine বদলানো, ব্যায়ামের ধরন বদলানো: যেমন : নরমাল floor aerobics বদলিয়ে dance aerobics/kickboxing করা ইত্যাদি|
  • যেই মাসেলে  সমস্যা সব চেয়ে বেশি শুধু সেই মাসেলের ব্যায়াম করলেই হবে বা গুরুত্ব দিতে হবে| সঠিক হচ্ছে: পুরা শরীরেই ফ্যাট জমে, যেই জায়গায় সমস্যা বেশি তার ব্যায়াম সবার শেষে করতে হবে| তার আগে অন্যান্য মাসেলেরও ব্যায়াম করতে হবে|
  • ব্যায়াম শুধু মাত্র ওজন কমানোর জন্য করা দরকার এবং ব্যায়াম একটি বিলাসিতা| সঠিক হচ্ছে ব্যায়ামের অনেক উপকারিতা আছে| ওজন কমানো ছাড়াও ব্যায়াম সুস্থ্য থাকার জন্য, ফিটনেস এর জন্য, হার্ট, ফুসফুস ভালো রাখার জন্য , রক্তচাপ, Arthritis নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য দরকার| ব্যায়ামের আরো উপকারিতা জানতে ক্লিক করুন| একটি কথা মনে রাখবেন –মানুষের শরীর যেভাবে তৈরী তা শারীরিক পরিশ্রম ও ব্যায়াম করার জন্যে, তাই ব্যায়াম না করলে অসুস্থ্য হতে বাধ্য| তাই ব্যায়াম বিলাসিতা নয়, এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়, দৈনন্দিন জীবনের অংশ|
আশা করি ব্যায়ামের জানা ভুল  দিক গুলো আপনাদের কাজে লাগবে এবং আরো সঠিক ভাবে ব্যায়াম করতে সাহায্য করবে | একটি ব্যায়ামের রুটিনে কার্ডিও, strength, flexibility—এই তিন ধরনের ব্যায়াম থাকলেই সেটি হবে একটি আদর্শ ব্যায়ামের রুটিন|
ব্যায়ামের কিছু সাধারণ নিয়মাবলী জানতে ক্লিক করুন|
সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা| ফিটনেস বাংলাদেশ ব্লগ পড়তে থাকুন আর সবাইকে পড়তে বলুন আর সবার উপকার করুন|
আর অনেক অনেক দোয়া করুন ফিটনেস বাংলাদেশ এর জন্য, যেন নতুন বছর: ২০১১ সালে আপনাদের জন্য আরো অনেক নতুন ও কার্যকরী পোস্ট নিয়ে আসতে পারি|
Image by: openclipart
Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s